
রায়পুরা প্রতিনিধি :
নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়াকে মারধোর করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছে প্রভাবশালী একটি মহল।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সরকারি আদিয়াবাদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়া বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে তিলে তিলে আমি সাজিয়েছি। ৫ আগষ্টের পর আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল নেতৃত্বে কিছু লোকজন আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমি তাদের চাওয়া সেই অর্থ দিতে অস্বীকার করি। পরে তারা আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ তদন্তের পর সরকার আমাকে স্বপদে বহাল করে। এরপরও আমাকে বাদল ও তার লোকজন প্রতিষ্ঠানে বসতে দেয় নাই। এক পর্যায়ে আমার স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবককেরা মিলে কলেজের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানেও বাদল, আমজাদ, আতিক, জুয়েল সহ ১৫-২০ জনের একটি দল মানববন্ধনকারীদের উপর হামলা চালায়। সেখানে লাঞ্চিত করা হয় জাতির চতুর্থস্তম্ভ সাংবাদিকদেরকেও। পরে মানববন্ধনকারীদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও রায়পুরা থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নি। যার ফলে আজকে আমাকে এই লাঞ্চিত হতে হলো।
শিক্ষক শাখাওয়াত আরো বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল এসএসসি পরিক্ষা হওয়ায় আমি আজ সকালে প্রতিষ্ঠানে যাই। কিছুক্ষণ পর আমজাদ, জলিল, আতিক, জুয়েল সহ আরো ৪-৫ জন এসে আমাকে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদলের কাছে যেতে বলে। আমি যেতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে টানা হেচরা করে এলোপাতাড়ি মারধোর করে। পরে আমি সেখান থেকে কোন ভাবে বেরিয়ে যাই। পরে বিষয়টি নরসিংদী জেলা প্রশাসক, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের অবগত করে রায়পুরা থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করি। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। এলাকাবাসী কেউ গেলে যেতে পারে আমি তো যাই নি।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করে নি।