
শাহানাজ ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালীর-২ (বাউফল) আসনে এবারও আ.লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেলেন সাবেক চিফ হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.স.ম ফিরোজ। রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়ায় আনন্দ মিছিল করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় জনতা ভবন থেকে এক আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ভবনে এসে শেষ হয়। পরে সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৪ জন ভোটার রয়েছে। এই আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ১৩ জন। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসন ধরে রেখেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ১৯৭৯ সালে প্রথম বার নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আ.স.ম ফিরোজ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে আ.স.ম ফিরোজ পটুয়খালী-২ আসন থেকে ১০ বার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচিত হয়েছেন ৭ বার। এর মধ্যে একবার নির্বাচন হয়নি, আর ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন।
এ আসন থেকে আ.স.ম ফিরোজ ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীসহ ১২জন নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন। তারা হলেন- কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সামসুল হক রেজা, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মোহন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য জোবায়দুল হক রাসেল, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ফিরোজ আলম, মেজর (অব.) ফিরোজ খান নুন ফরাজী, ব্যবসায়ী হাসিব আলম তালুকদার, কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হাসান সুপ্ত, অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ও ইসমত আরা হ্যাপী।
অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে আ.স.ম ফিরোজ সামনে ৮ম বারের মতো জয়ের হাতছানি জানিয়ে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও উপজেলা ভোট রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক রায়হান সাকিব বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোট রক্ষা করে যাচ্ছি। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব। এরইমধ্যে প্রতি ভোট কেন্দ্রে ৫০ সদস্য বিশিষ্ট ভোটরক্ষা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হবে। তারা নির্বাচনের শুরু থেকে ভোটগ্রহণ ও নৌকার বিজয় নিশ্চত হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।’ বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন বানচালের যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে বলেও জানান রায়হান সাকিব।