
শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা প্রতিনিধি :
নরসিংদীর রায়পুরায় বন্ধুদের সাথে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্র সৈকত দাসের (১৭) মরদেহ ১৯ ঘন্টার পর আজ সোমবার সকাল ১০টায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
এর আগে গতকাল রবিবার (১৭ মার্চ) বিকালে ৩টায় উপজেলার আমিরগঞ্জের আটকান্দি নীলকুঠি এলাকার বিচারপতি বাড়ির ঘাটে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন ওই শিক্ষার্থী।
নিহত সৈকত দাস মনোহরদী উপজেলার তেছরি এলাকার রাষ মহন দাসের ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বোনের বাড়ি নরসিংদীর শহরের ঘোড়াদিয়া বেড়াতে আসেন সৈকত। পরে রবিবার দুপুরে ১১ জন বন্ধুর সাথে রায়পুরা উপজেলার আটককান্দি নীলকুঠি এলাকায় আসেন তিনি। ঘোরাঘুরি এক পর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে সৈকতসহ তাঁর বন্ধুরা মিলে ওই এলাকার বিচারপতি বাড়ির ঘাটে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। ওই সময় তার বন্ধুরা গোসল শেষে পাড়ে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানাই পানিতে তলিয়ে যায় সৈকত। পরে স্থানীয় মেম্বার আবু বক্করকে বিষয়টি জানালে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে সহযোগিতা চান তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে নরসিংদী ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে রাত হয়ে যায়। অন্ধকার পরিবেশের কারণে উদ্ধার অভিযান না করেই ফিরে যান তাঁরা। আজ সোমবার সকালে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে নদীতে নামে ডুবুরি দল। সকাল ১০টার দিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থী সৈকতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আমিরগঞ্জ ইউপি মেম্বার আবু বক্কর জানান, সন্ধ্যা খবর পাই সৈকত নামে এক শিক্ষার্থী নদীতে ডুবে গেছে। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানাই। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল আসতে রাত হয়ে যায়। এ কারণে আজ অভিযান চালাই তারা। সকালে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
আমিরগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম খাঁন বলেন, বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে।