
ইলিয়াছ হায়দার, শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
আবুল হারিস রিকাবদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি, বিএড,এমএ সাবেক অধ্যক্ষ, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বর্তমান গভর্নিং বডি, শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ, সভাপতি, হরিহরদী স্কুল এন্ড কলেজ, সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, শিবপুর উপজেলা,
চেয়ারম্যান, মাছিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ।
সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করেন বলে জনমনে তিনি প্রশংসিত।
তিনি দুই দুইবার জেলা স্কাউট কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হন, ২ টার্ম বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি শিবপুর শহীদ আসাদ কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন, বর্তমানে কলেজটি সরকারিকরণ হয়েছে। তাছাড়াও উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৫ বছর। তিনি উপজেলা সাংস্কৃতিক সংস্থার ছিলেন সাধারন সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য, শিবপুর গণপাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
১৬ নভেম্বর ১৯৪৭ সনে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা আবদুল করিম রিকাবদার একজন সরকারি কর্মচারি ছিলেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় ধানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মাধ্যমিক শিক্ষা শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথ কলেজ, ঢাকা থেকে বিএসসি, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা থেকে বিএড এবং পরে তিনি এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ১৯৬৩ সাল থেকে ছাত্র ইউনিয়ন ও পরে ভাষানী ন্যাপের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বামপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আসাদের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। সে সময় গ্রাম বাংলার কৃষকের মুক্তির জন্য তাদের সংগঠিত করেন। ১৯৬৮ সনের ২৯ ডিসেম্বর বন্দী তিন সহযোদ্ধাকে মু্ক্তির লক্ষ্যে সংগঠিত মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে পুলিশের গুলির সম্মুখীন হন এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারী তিন জন নিহত হন। সেদিনের রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলায় তিনি অভিযুক্ত হন। এ আন্দোলনই ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের বীজ বপন করে। যা পরবর্তীতে স্বাধীকার আন্দোলনে রূপ নেয়। এ সময় তিনি কাজী জাফর আহমেদ, হায়দার আকবর খাঁন রনো, মোস্তফা জামাল হায়দারের মত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ সহচর্য লাভ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযদ্ধে অংশগ্রহন করেন। সাহসিকতার সাথে শিবপুরের বিভিন্ন রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেন এবং যুদ্ধকালীন দীর্ঘ ৯ মাস ক্যাম্পে জীবন অতিবাহিত করেন।
যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় তিনি রক্ষীবাহিনীর নানা অত্যাচার সহ্য করেন। ১৯৭৬ সালে প্রথম মাছিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিভিন্ন টার্মে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে অদ্যাবধি তিনি এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরশাদ ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তিনি সফলতার সাথে শিবপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন। শিবপুরের রাজনীতিতে তিনি শিক্ষানুরাগী, নান্দনিক সংস্কৃতিমনা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে কিছু সময়ের জন্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ আসনটি ৯টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ঘটিত। দলীয় সভাপতি ও চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে সকল ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে,যে গুলো বাকি আছে দলীয় নির্দেশনা পেলে পর্যায়ক্রমে করা হবে। রাজনৈতিকভাবে ও সাংগঠনিকভাবে এ আসনে বিএনপি যথেষ্ট শক্তিশালী।
১৯৬৮ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে নারী শিক্ষার প্রসারে শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শিবপুরে নারী শিক্ষায় স্কুলটি বিশেষ অবদান রাখছে। বর্তমানে স্কুলটি নরসিংদী জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। তিনি শিবপুরের সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সবসময়ই অবদান রাখছেন।
তিনি শেখ হাসিনা পতন আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। ২৮ অক্টোবর ২০২৩ পরবর্তী বিএনপির অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য ০২ নভেম্বর ২০২৩ সালে তাকে ১নং আসামী করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়। পূর্বেও তার নামে আরো কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে শিবপুরের শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতারা যখন বিদেশে অবস্থান করেছেন তখন তিনি শিবপুরে অবস্থান করে আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। তাঁর বাসা পুলিশ প্রতিনিয়ত তছনছ করে।
তিনি ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ৯০ এর এরশাদ বিরোধী গণ-অভ্যুত্থান ও ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, এ তিনটি অভ্যুত্থানেই সরাসরি অংশগ্রহন করা একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।