নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামছাড়া পরিবার, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চানপুর ইউনিয়নের সওদাগর কান্দি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সম্প্রতি নিহত মোমেন মিয়ার পরিবার। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকাছাড়া পরিবার ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের নিজ নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রায়পুরা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান নিহত মোমেন মিয়ার ছোট ভাই আমিন মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে আমিন মিয়া বলেন, গত ২ আগস্ট পূর্ববিরোধের জেরে ফরিদ গ্রুপের লোকজন তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তার বড় ভাই মোমেন মিয়াকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ৩ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে ৬৩ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন আমিন মিয়া। তার অভিযোগ, ওই রাতেই ফরিদ গ্রুপের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আতঙ্কে পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তারা এলাকাছাড়া হয়ে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
আমিন মিয়া আরও অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনার পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের খালি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একই সঙ্গে সওদাগর কান্দি চকবাজারে হেলাল মিয়া ও রুহুল আমিন সরকারের দোকানঘর থেকেও মালামাল লুটের অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পেয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী গোপনে এলাকায় গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলা চালায়। এতে গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আহতদের মধ্যে মৃত উসমান মিয়ার ছেলে বশির (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানানো হয়। গত ২ আগস্ট নিহত মোমেন মিয়ার মেয়ে তানিয়াও (২৪) গুলিবিদ্ধ হন। তারা দুজনই বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়া মৃত সিরাজুল হকের ছেলে সাইফুল হক (৪৭) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি বর্তমানে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মোসলেম মিয়ার ছেলে সগির (৩২) হামলায় আহত হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আমিন মিয়া বলেন, একের পর এক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারসহ এলাকার অন্যান্য ভুক্তভোগীও নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। এ অবস্থায় সওদাগর কান্দি এলাকায় দ্রুত একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘হামলার পর হামলার শিকার হয়ে কোনো কূলকিনারা না পেয়ে আমরা সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের অসহায়ত্বের চিত্র প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নজরে আনতে চাই।’
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমিন মিয়া বলেন, ‘আপনি কোনো একটি গোষ্ঠীর একক নেতা নন, আপনি পুরো রায়পুরাবাসীর নেতা। আমরা ভুক্তভোগী মানুষ আপনার সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে নিহত মোমেন মিয়ার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে এলাকাছাড়া পরিবারগুলোকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান।