• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত রায়পুরায় মাদকসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ানের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বেলাবোতে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বেলাবতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার বেলাবো উপজেলা সরকারি প্রাাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়কদের নবগঠিত কমিটি ঘোষণা বেলাবতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচা ভাতিজা নিহত বেলাবতে মাাদকসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বেলাবো প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে দেওয়ানের চর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রায়পুরা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দিদারুল ইসলাম দিদার

শ্রীপুরে দিন মজুর সংকটে ঘুম নেই কৃষকের দু”চোখে

Reporter Name
Update : বুধবার, ২ মে, ২০১৮

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বাউনি গ্রামের কৃষক হামিদুল হক, নিজের কোন জায়গা জমি নেই, প্রতিবারের মত স্থানীয় একজনের আড়াই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এই জমি চাষ করতে তাঁর সতের হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। প্রথমে নেক ব্লাস্টের আক্রমনে তাঁর ধানের চরম ক্ষতি হয় এতে জমির অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে গেলেও বাকি অর্ধেক ধান পেকেছে দশ দিন হল, এখনও ধান ঘরে তুলতে পারেননি তিনি, কারন ধান কাটার কামলা(শ্রমিক) পাচ্ছেন না। একদিকে ঋণের ভার অপরদিকে কালবৈশাখী ও শিলা বৃষ্টির আশংকা এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে র্নিঘুম রাত কাটছে তাঁর।
এরকম অবস্থা শুধু কৃষক হামিদুলের নয় গাজীপুরের শ্রীপুরের কয়েকহাজার কৃষকের দু”চোখ এখন র্নিঘুম। শুধু শ্রমিক সংকটের কারনেই অনাগত ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষার প্রহর বাড়াচ্ছে। আবার অনেক এলাকায় অনেক কৃষক শ্রমিকের জোগাড় না পেয়ে নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে মাঠে নেমেছেন ফসল ঘরে তোলার জন্য।
স্থানীয় কৃষি অফিস ও কৃষকদের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে শ্রীপুরের একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ১২১৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের ভাল ফলণ হলেও শেষ মুহুর্তের নেক ব্লাস্টের আক্রমনে ফলণ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে সঠিক সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারলে সে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে কৃষকরা। ধান পেকে আট দশদিন হয়ে গেলেও এখনও অধিকাংশ ধান মাঠেই রয়েছে শ্রমিক সংকটের কারনে।
গোদারচালা গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান জানান, তাঁর সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান গত এক সপ্তাহ আগে পেকেছে। এখনও শ্রমিক সংকটে তিনি ধান কাটা শুরু করতে পারেননি। তিনি প্রতি বিঘা জমির জন্য চারহাজার টাকা করেও শ্রমিক পাচ্ছেন না।
তেলিহাটি গ্রামের কৃষানী উম্মে কুলসুম জানান, এক বিঘা (৩৫ শতাংশ) জমির ধান কাটতে চার পাঁচ হাজার টাকা লাগছে, এই টাকা জোগাড় করতে পারেননি বিধায় এখনও ধান কাটতে পারেননি। এ নিয়ে তাঁদের চোখে মুখে শুধুই অন্ধকার।
দড়িখোঁজেখানী গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান,আমাদের কৃষকদের এখন পদে পদে বাঁধা। সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন কৃষি শ্রমিক সংকট। আর এবার মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে এসেছে শ্রমিক সংকট।
পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামের কৃষক আজমল মিয়া জানান, দেশে শিল্প কারখানা গড়ে উঠার পর থেকেই কৃষি শ্রমিকের সংকট শুরু হয়েছে। যা এখন চরমে পৌছেছে। ভালো ফলন হলেও কৃষি উৎপাদনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হওয়ায় কৃষকরা লোকশানে রয়েছে। নিজের জমির ধান কাটতে কয়েকদিন ধরে হন্যে হয়ে তিনি শ্রমিক খোঁজেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
শ্রীপুরের সবচেয়ে বড় কৃষি শ্রমিকের হাট বসে মাওনা চৌরাস্তায় সবসময় শ্রমিক থাকলেও গত ১৫ দিন ধরে এখানে শ্রমিক শূন্য। বিভিন্ন জায়গা হতে শ্রমিক নিতে আসা লোকজনের ভীর প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ হাটে। কিন্তু শ্রমিক না পেয়ে শূণ্যেই ফিরতে হয় কৃষকদের।
নিজমাওনা গ্রামের সত্তুরোর্ধ কৃষক আহমদ আলী তিনদিন ধরে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ধান কাটছেন কথা হয় তাঁর সাথে, তিনি জানান জমিতে পাকা ধান রেখে দু”চোখে ঘুম হয় না। যে কোন সময় সোনালী ফসলের হানী হতে পারে, তাই শ্রমিক সংকটের কারনে তিনি বসে থাকতে নারাজ অসুস্থ শরীর নিয়েও স্ত্রীকে নিয়ে ধান কাটার জন্য মাঠে নেমেছেন।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসানের অভিমত, বর্তমান শ্রম বাজারে কৃষি শ্রমিক সংকট এখন অন্যতম একটি সমস্যা। এ সংকট মোকাবেলায় কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ তাঁর। এছাড়াও বোরো মৌসুমের ফসল ঘরে তোলার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখন পর্যন্ত শ্রীপুরে দুর্যোগের কবলে কৃষকরা পড়েনি। তবে এ বিষয়ে অতিসতর্কতার অংশ হিসেবেই ধান পেকে গেলেই যত দ্রুত সম্ভব ঘরে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category